Wednesday, May 25, 2022

সীমান্তে পেরিয়ে নেপালের ভূখণ্ডে ঢুকেছে চীন

নেপাল সরকারের ফাঁস হওয়া একটি নথিতে দেশটির সীমান্ত পেরিয়ে চীন অনুপ্রবেশ করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দুই দেশকে বিভক্তকারী সীমান্ত এলাকার বাইরে নেপালের ভূখণ্ডে চীনের অবৈধ ঢুকে পড়া নিয়ে প্রথমবারের মতো এক প্রতিবেদনে এ ধরনের অভিযোগ করেছে কাঠমান্ডু। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে ফাঁস হওয়া সেই নথির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিজেদের ভূখণ্ডে চীনের হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেছে নেপাল। গত সেপ্টেম্বরে এই প্রতিবেদন তৈরি করে নেপালের সরকার। এতে দাবি করা হয়, নেপালের দূর পশ্চিমের হুমলা জেলার সীমান্তে অনুপ্রবেশ করেছে চীন।

কাঠমান্ডুতে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস নেপাল সীমান্তে অনুপ্রবেশের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে চাইলেও নেপালের সরকার কোনও সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

নেপাল সরকার এখন পর্যন্ত কেন এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি তা পরিষ্কার নয়। তবে দেশটির সরকার গত কয়েক বছরে চীনের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন করেছে; যাতে দক্ষিণের বড় প্রতিবেশী ভারতের সাথে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কে ভারসাম্যহীনতা তৈরি না হয়।

তবে নেপালের এই প্রতিবেদন বেইজিংয়ের সাথে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। হিমালয় পর্বতমালা বরাবর চীন এবং নেপালের মধ্যে প্রায় এক হাজার ৪০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। ১৯৬০’র দশকে দুই দেশের মধ্যে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়। তবে সীমান্তের বেশিরভাগ এলাকা একেবারে দুর্গম; যেখানে পৌঁছানো অনেক কঠিন।

কিছু কিছু এলাকায় কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে পিলার বসিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। যে কারণে আসলে কার সীমান্ত ঠিক কোথায়, তা অনেক সময় জানা কঠিন।

সেই সময় চীনের সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের পর নেপালের সরকার হুমলা জেলায় টাস্কফোর্স পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পুলিশ এবং সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সের কিছু সদস্য বলেছেন, সীমান্তে নেপালের অংশে বেশ কিছু ভবন নির্মাণ করেছে চীন।

চীনা নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি কার্যক্রমের কারণে নেপালের লালুংজং সীমান্তে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে বলে টাস্কফোর্সের সদস্যরা দেখতে পেয়েছেন। কৈলাশ পর্বতের কাছের ওই এলাকায় ঐতিহ্যগতভাবেই পূণ্যার্থীরা ধর্মীয় উৎসবে জমায়েত হন। এলাকাটি হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে ‘পবিত্র স্থান’ হিসেবে বিবেচিত।

প্রতিবেদনে নেপালের খামারিদের পশুপালনও চীন নিয়ন্ত্রণ করছে বলে জানানো হয়েছে। একই এলাকার একটি সীমান্ত পিলারের আশপাশে চীন বেড়া নির্মাণ করছে বলেও টাস্কফোর্সের সদস্যরা দেখেছেন। এছাড়া সীমান্তে নেপালের অংশে খাল-খনন এবং একটি সড়ক তৈরির চেষ্টাও করছে চীন।

সীমান্ত পেরিয়ে চীনের ভেতরে বাজারে যাওয়ার সুবিধা থাকায় অনেক নেপালি এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাননি। সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীকে ওই এলাকায় মোতায়েন রাখার সুপারিশ করা হয়েছে টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Leave a Reply

সর্বশেষ