Friday, September 30, 2022

সংকল্প কবিতা – কাজী নজরুল; সংকল্প কবিতার মূলভাব, শব্দার্থ, প্রশ্ন উত্তর

সংকল্প কবিতা – লেখকঃ কাজী নজরুল ইসলাম

“সংকল্প কবিতা” কবিতাটি লেখক আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বিদ্রোহী কবি নামে পরিচিত আমাদের প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ সাল)। তাঁর জন্মস্থান পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রাম। কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা, গান, গল্প, নাটক ও উপন্যাস আমাদের বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। শিশুদের জন্য তিনি অনেক গান, কবিতা, ছড়া ও নাটক লিখেছেন। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, ঝিঙেফুল ইত্যাদি। শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত কবি নজরুল ইসলামের অনেক উদ্দীপনামূলক ও প্রেরণামূলক কবিতার অন্যতম আমাদের আজকের আলোচ্য ‘সংকল্প কবিতা’।

সংকল্প কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম

থাকব না কো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে,-
কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘুর্ণিপাকে।
দেশ হতে দেশ দেশান্তরে
ছুটছে তারা কেমন করে,
কিসের নেশায় কেমন করে মরছে যে বীর লাখে লাখে,
কিসের আশায় করছে তারা বরণ মরণ-যন্ত্রণাকে।

কেমন করে বীর ডুবুরী সিন্ধু সেঁচে মুক্তা আনে,
কেমন করে দুঃসাহসী চলছে উড়ে স্বর্গ পানে।
জাপটে ধরে ঢেউয়ের ঝুঁটি
যুদ্ধ-জাহাজ চলছে ছুটি,
কেমন করে আনছে মানিক বোঝাই করে সিন্ধু-যানে,
কেমন জোরে টানলে সাগর উথলে ওঠে জোয়ার বানে।

কেমন করে মথলে পাথার লক্ষী ওঠেন পাতাল ফুঁড়ে,
কিসের অভিযানে মানুষ চলছে হিমালযয়ের চুড়ে।
তুহিন মেরু পার হয়ে যায়
সন্ধানীরা কিসের আশায়;
হাউই চড়ে চায় যেতে কে চন্দ্রলোকের অচিন পুরেঃ
শুনবো আমি, ইঙ্গিত কোন ‘মঙ্গল’ হতে আসছে উড়ে।।

কোন বেদনার টিকিট কেটে চন্ডু-খোর ঐ চীনের জাতি
এমন করে উদয়-বেলায় মরণ-খেলায় ওঠল মাতি।
আয়ার্ল্যান্ড আজ কেমন করে
স্বাধীন হতে চলছে ওরেঃ
তুরষ্ক ভাই কেমন করে কাঁটল শিকল রাতারাতি!
কেমন করে মাঝ গগনে নিবল গ্রীসের সূর্য-বাতি।।

রইব না কো বদ্ধ খাঁচায়, দেখব এ-সব ভুবন ঘুরে-
আকাশ বাতাস চন্দ্র-তারায় সাগর-জলে পাহাড়-চুঁড়ে।
আমার সীমার বাঁধন টুটে
দশ দিকেতে পড়ব লুটেঃ
পাতাল ফেড়ে নামব নীচে, ওঠব আবার আকাশ ফুঁড়েঃ
বিশ্ব-জগৎ দেখব আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে।

সংকল্প কবিতার মূলভাবঃ

সংকল্প কবিতার মূলভাবঃ  কিশোর মন চিরকৌতূহলী। সে জানতে চায় বিশ্বের সবকিছু। আবিষ্কার করতে চায় অসীম আকাশের সব অজানা রহস্য। বুঝতে চায় কেন মানুষ অসীমে, অতলে, অন্তরীক্ষে ছুটছে। বীর কেন জীবন বিপন্ন করে মৃত্যুকে বরণ করছে। সে আরও জানতে চায়, ডুবুরিরা কেমন করে গভীর পানিতে ডুব দিয়ে মুক্তা আহরণ দিয়ে তিনি তাঁর অদম্য কৌতূহলের সফল প্রকাশ দেখতে চান।

শিশুর সংকল্প কবিতা pdf কাজী নজরুল ইসলাম, পঞ্চম শ্রেণি সংকল্প কবিতার প্রশ্ন উত্তর ২০২২, সংকল্প কবিতার শব্দার্থ, সংকল্প কবিতার মূলভাব ও ব্যাখ্যা,

সংকল্প কবিতা pdf | সংকল্প কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম pdf | sonkolpo kobita pdf download | সংকল্প কবিতা download

সংকল্প কবিতা pdf download করুন। | সংকল্প কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম pdf download করুন | sonkolpo kobita pdf download করুন। সংকল্প কবিতা [ Download PDF ]

সংকল্প কবিতার শব্দার্থ

প্রশ্ন : নিচের শব্দগুলোর অর্থ লিখ।

সংকল্প, বদ্ধ, যুগান্তর, দেশান্তর, কিসের নেশায়, বরণ, মরণ-যন্ত্রণা, ডুবুরি, দুঃসাহসী, চন্দ্রলোক, অচিনপুর, ফেড়ে।

উত্তর :

প্রদত্ত শব্দ             শব্দের অর্থ

সংকল্প                 প্রতিজ্ঞা, ইচ্ছা

বদ্ধ                       বন্ধ

যুগান্তর                এক যুগ পর আরেক যুগ

দেশান্তর               এক দেশ থেকে আরেক দেশ

কিসের নেশায়       কী আকর্ষণে, কী উদ্দেশ্যে

বরণ                    কোনো কিছু সাদরে গ্রহণ

মরণ-যন্ত্রণা           মৃত্যুর মতো কঠিন যন্ত্রণা

দুঃসাহসী              অত্যাধিক সাহসী

চন্দ্রলোক              চাঁদের দেশ

অচিনপুর             অচেনা জায়গা

ফেড়ে                  চিরে

প্রশ্ন: প্রদত্ত শব্দগুলো দিয়ে বাক্য তৈরি করো।

সংকল্প, বদ্ধ, যুগান্তর, কিসের নেশায়, বরণ, মরণ-যন্ত্রণা, ডুবুরি, দুঃসাহসী, চন্দ্রলোক, ফেড়ে, অচিনপুর ।

উত্তর :

প্রদত্ত শব্দ          বাক্য রচনা

সংকল্প : ভালো কাজ করার জন্য দৃঢ় সংকল্প থাকা দরকার।

বদ্: আলো-বাতাস ঢোকে না, এমন বদ্ধ ঘরে থাকা স্বাস্থ্যকর নয়।

কিসের নেশায়: আকমল কিসের নেশায় এমন ছোটাছুটি করছে?

বরণ: পয়লা বৈশাখে আমরা বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিই।

মরণ-যন্ত্রণা: যারা সাহসী, তারা মরণ-যন্ত্রণাকে ভয় পায় না।

ডুবুরি: ডুবুরি মেঘনা নদীর তলদেশে নিমজ্জিত লঞ্চটি উদ্ধার করেছেন।

দুঃসাহসী: দুঃসাহসী মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছেন।

চন্দ্রলোক: মানুষ এখন চন্দ্রলোক ছাড়িয়ে মঙ্গল গ্রহেও যাত্রা শুরু করছেন।

ফেড়ে: কাঠুরে কুড়াল দিয়ে কাঠ ফেড়ে ফেলল।

অচিনপুর: দাদু আমাকে অচিনপুরের রাজকন্যার গল্প শুনিয়েছেন।

আরও কবিতা পড়ুন

সংকল্প কবিতার প্রশ্ন উত্তরঃ

প্রশ্ন : কবি বদ্ধ ঘরে থাকতে চান না কেন?

উত্তর : অজানাকে জানার, অদেখাকে দেখার কৌতূহল মানুষের সবসময়। কবিও এর ব্যতিক্রম নন। তিনি বদ্ধ ঘরে থাকতে চান না। কারণ, তিনি জগতের সমস্ত রহস্য জানতে চান। তিনি জানতে চান, সারা বিশ্বের মানুষ যুগ যুগ ধরে কীভাবে নতুন নতুন আবিষ্কারের নেশায় মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে এগিয়ে চলছে। সমুদ্রের তলদেশে গিয়ে ডুবুরি কীভাবে মুক্তা সংগ্রহ করে কিংবা দুঃসাহসী বৈমানিক কীভাবে আকাশে পাড়ি জমায়—এ সবকিছুও কবি জানতে চান। বদ্ধ ঘরে আবদ্ধ থেকে কবি রহস্যঘেরা বিশ্বজগতটাকে হাতের মুঠোয় পুরে দেখতে চান। তাই কবি বদ্ধ ঘরে থাকতে চান না।

প্রশ্ন : যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে মানুষ ঘুরছে বলতে কী বুঝ লিখ?

উত্তর : ‘যুগান্তর’ শব্দটির অর্থ হলো এক যুগের পর আরেক যুগ। সময়ের হিসেবে ১২ বছরে এক যুগ হয়। আপন গতিতে এগিয়ে যাওয়া, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয় পৃথিবীর অনেক কিছু। নতুন নতুন রহস্য ও ঘটনার সৃষ্টি হয়। সময়ের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও এগিয়ে চলে রহস্য অনুসন্ধান ও ঘটনার মূল উদ্ঘাটনের জন্য। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের এই এগিয়ে যাওয়ার প্রবণতাকে বোঝানোর জন্যই বলা হয়েছে যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে মানুষ ঘুরছে।

প্রশ্ন : চন্দ্রলোকের অচিনপুরে কারা যেতে চায়?

উত্তর : ‘চন্দ্রলোক’ কথাটির অর্থ হলো চাঁদের দেশ। বিশ্বের মানুষের কাছে এই দেশ একটি অজানা-অচেনা জায়গা। অজানা-অচেনা জায়গা সম্পর্কে মানুষ চিরকালই কৌতূহলী। আর এই কৌতূহলী মানুষই চন্দ্রলোকের অচিনপুরে যেতে চায়। পৃথিবীর এই দুঃসাহসী মানুষ হাউই চড়ে চন্দ্রলোকের অচিনপুর অভিযান সফল করতে চায়। জানতে চায় অচিনপুর চন্দ্রলোকের অজানা সব রহস্য।

প্রশ্ন : কিসের আশায় বীর মরণকে বরণ করছে?

উত্তর : লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য বীরেরা মৃত্যুর মতো কঠিন যন্ত্রণাকেও সাদরে গ্রহণ করে থাকে। রহস্য ভেদ করা, নতুন কিছু সৃষ্টি করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয়ী হয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা এবং অজানাকে জানার আশায় বীর মরণকে বরণ করছে।

প্রশ্ন : কবি হাতের মুঠোয় পুরে কী এবং কেন দেখতে চান?

উত্তর : কবি হাতের মুঠোয় পুরে বিশ্বজগৎ দেখতে চান। কারণ, পুরো বিশ্বজগতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অনেক রহস্য। অজানা সেসব রহস্য ভেদ করে তিনি সত্যিটা জানতে চান। আবিষ্কার করতে চান অসীম আকাশের সব অজানা রহস্য। বুঝতে চান কেন মানুষ অতলে, অন্তরীক্ষে, অসীমে ছুটছে। এই জানার মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর অদম্য কৌতূহলের সফল প্রকাশ দেখতে চান।

প্রশ্ন : বীর ডুবুরি কী করে?

উত্তর : গভীর পানিতে ডুব দিয়ে যারা কোনো জিনিস উদ্ধার করে আনে তাদের ডুবুরি বলা হয়। ‘সংকল্প’ কবিতায় কবি ডুবুরিদের বীর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বীর ডুবুরিরা নদী বা সমুদ্রের তলদেশ থেকে মুক্তা সংগ্রহ করে। নদী বা সমুদ্রের গভীর তলদেশে কোনো নৌকা, লঞ্চ বা জাহাজ নিমজ্জিত হলে বীর ডুবুরিরা তা উদ্ধার করে।

প্রশ্ন : সংকল্প কবিতায় কবি কী কী সংকল্প করেছেন? কবির সংকল্পগুলো লিখ।

উত্তর : ‘সংকল্প’ কবিতায় কবি অনেকগুলো সংকল্প করেছেন। কবির সংকল্পগুলো নিচে দেয়া হলো-

  • ১. জগৎটাকে ঘুরে দেখবেন।
  • ২. যুগ থেকে যুগে মানুষ কীভাবে বেঁচে আসছে, তা বুঝতে চেষ্টা করবেন।
  • ৩. এক দেশ থেকে আরেক দেশে মানুষ কেন ছোটাছুটি করে বেড়াচ্ছে, তা দেখবেন।
  • ৪. অনেক সাহসী মানুষ কেন বিপদ তুচ্ছ করে নানান কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে, মৃত্যু পর্যন্ত বরণ করছে, সেসব তিনি দেখবেন।
  • ৫. সমুদ্রের তলদেশে গিয়ে ডুবুরি কীভাবে মুক্তা সংগ্রহ করে, কিংবা দুঃসাহসী বৈমানিক কীভাবে আকাশে পাড়ি জমায়, তা তিনি জানবেন।
  • ৬. রকেটে চড়ে কে বা কারা চাঁদের দেশে যেতে চায়, কিংবা মঙ্গল গ্রহ থেকে আমাদের পৃথিবীর বুকে কোনো সংকেত ভেসে আসছে কি না, তাও তিনি জানতে চান।
  • ৭. মাটির নিচে পাতালে কী আছে বা মাটির ওপরে আকাশে কী আছে, তা জানার জন্য তিনি পাতাল ও মহাকাশে অভিযান চালাবেন।
  • ৮. তিনি সারা পৃথিবী জয় করবেন, নিজের হাতের মুঠোয় পুরে নিয়ে পৃথিবীকে নেড়েচেড়ে পরীক্ষা করে দেখবেন।

প্রশ্ন : কবি পাতাল ফেড়ে নামতে চান কেন?

উত্তর : পাতাল বলতে আমরা সাগরের তলদেশ বা মাটির নিচের দেশকে বুঝে থাকি। মহাকাশের মতো পাতালপুরীও এক অজানা রহস্যঘেরা জায়গা। অসীম বিশ্বকে জানার অদম্য কৌতূহলী কবি মাটির নিচে পাতালে কী আছে, তা জানার জন্য পাতাল ফেড়ে সেখানে নামতে চায়। পাতালের অজানা রহস্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে কৌতূহল মেটাতে চান।

প্রশ্ন : ক্রিয়াপদের সাধু চলিত রূপ লিখ? 

উত্তর :

চলিত রূপ         সাধু রূপ

আঁকব               আঁকিব

দেখব                দেখিব

ঘুরছে                ঘুরিতেছে

মরছে                মরিতেছে

ছুটছে                ছুটিতেছে

আসছে              আসিতেছে

চলছে                চলিতেছে

প্রশ্ন :  ভবিষ্যৎ কালবাচক ক্রিয়াপদগুলোকে বর্তমান অতীত কালবাচক ক্রিয়াপদে রূপান্তর করো? 

উত্তর :

ভবিষ্যৎ     বর্তমান     অতীত

থাকব          থাকি        থেকেছিলাম

দেখব         দেখি        দেখেছিলাম

শুনব          শুনি        শুনেছিলাম

খাব            খাই         খেয়েছিলাম

বেড়াব        বেড়াই     বেড়িয়েছিলাম

ঘুরব          ঘুরি          ঘুরেছিলাম

পড়ব        পড়ি         পড়েছিলাম

খেলব       খেলি        খেলেছিলাম

চড়ব        চড়ি          চড়েছিলাম

নামব       নামি        নেমেছিলাম

ধরব        ধরি           ধরেছিলাম

সংকল্প কবিতা আবৃত্তিঃ

সংকল্প কবিতা আবৃত্তি –

আরও পড়ুনঃ বিদ্রোহী কবিতা – কাজী নজরুল ইসলাম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Leave a Reply

সর্বশেষ