Monday, May 23, 2022

জবিতে ‘বঙ্গবন্ধু:বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্র সৃষ্টির মহানায়ক’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত 

মো. আব্দুর রহিম, জবি প্রতিনিধি: বঙ্গবন্ধু, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্নাত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ২৮ মার্চ (সোমবার), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্র সৃষ্টির মহানায়ক’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি(এম.পি.) এবং  আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ। এছাড়া,বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, ইনস্টিটিউটের পরিচালকগণ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সদস্যবৃন্দ ও শিক্ষকবৃন্দ, জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যবৃন্দ, জবি ছাত্রলীগ শাখার নেতৃবৃন্দ, সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান। এরপর ‘বঙ্গবন্ধু:বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্র সৃষ্টির মহানায়ক’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুই যে বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্র সৃষ্টির মহানায়ক সেই ইতিহাস আমাদের সকলকেই জানতে হবে এবং জানা থাকা দরকার।কেননা বঙ্গবন্ধুকে জানলে আমরা এই ভূখণ্ডের ইতিহাস সম্পর্কে জানব,এভূখন্ডের মানুষের আশা,আকাঙ্ক্ষা,স্বপ্নের কথা জানব।তাঁদের ত্যাগ, তিতিক্ষা ও সংগ্রামের কথা জানব। পাকিস্তান সৃষ্টির প্রতি বঙ্গবন্ধুর  আশু কামনা ছিলনা। তিনি সবসময় ঐতিহাসিক লাহোর বক্তব্যকে সমর্থন করে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন।পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে নিয়েই তিনি ভাবতেন।পাকিস্তান সৃষ্টির  প্রথম থেকেই তিনি এই ভূখণ্ডের মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা নিয়ে ভাবতেন।জনগণকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন বলেই হয়তো তিনি একজন দূরদর্শী নেতা ছিলেন, যেই ভালোবাসা এবং গুণ আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভেতরেও দেখতে পাই।বাংলাদেশের জনগণও বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে,তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতা।”

এছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং নতুন ক্যাম্পাসের দ্রুত বাস্তবায়ন নিয়েও কথা বলেন। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যাতে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে নষ্ট করতে না পারে এজন্য তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। 

বঙ্গবন্ধুকে স্মৃতিচারণ করে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ উভয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিধ অর্জন নিয়ে কথা বলেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন অসুবিধার কথা তুলে ধরে নতুন ক্যাম্পাসের কাজে অগ্রগতি আনয়নের লক্ষ্যে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর নিকট আবেদন জানান।

উক্ত অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী (এম.পি) অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং বঙ্গবন্ধুকে স্মৃতিচারণ করে সমাপনী ভাষণে বক্তব্য রাখেন উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Leave a Reply

সর্বশেষ