Monday, May 23, 2022

রাবির ছাত্রী হলে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তাপসী রাবেয়া হলের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই হলের কয়েকজন ছাত্রীর বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) রাত দেড়টা থেকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে ভোর ৪টার দিকে নিজ কক্ষ থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী ফারজানা খাতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা হলেন- সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মেফতাহুল জান্নাত মনিকা, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস সূচনা, নাট্যকলার মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আসমা বিনতি, চারুকলার শিক্ষার্থী স্মৃতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মণীষা ও প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাম্মী আক্তার প্রেমা।

হল সূত্রে জানা যায়, প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার তাপসী রাবেয়া হলের ‘খ’ ব্লকের চার তলায় নিয়মিত সভা হয়। এ সভায় প্রতিটি রুমের বর্ডারদের সমস্যা ও ফ্লোরে থাকার নিয়মাবলি নিয়ে আলোচনা হয়। গতকালের সভায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অসুস্থ থাকায় নিজ কক্ষে রুমে চলে যান। পরে সেখানে তার রুমমেট তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এক পর্যায়ে কয়েকজন তাকে মারধর করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফারজানা খাতুন বলেন, গতকাল তিনি শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। তখন রাত দেড়টার দিকে তার রুমমেট সূচনাকে লাইট অফ করতে বলায়, তিনি রেগে গিয়ে ফ্লোরের সবাইকে নিয়ে আসেন। পরে কয়েকজন মিলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। ঘটনাটি ফোনে রেকর্ড করার এক পর্যায়ে বুঝতে পেরে, তাকে মারধর করে ফোন কেড়ে নেন মনিকা নামে এক সিনিয়র শিক্ষার্থী। এরপর তারা জোর করে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে ফোন আনলক করে ব্যক্তিগত তথ্য ঘাঁটাঘাঁটি করেন। তিন ঘণ্টা পর হল সুপার তাকে ফোনটি ফেরত দেন। পরে ভোর চারটার দিকে তাকে আর হলে থাকতে দেবে না বলে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন তারা। তখন হল সুপার তাকে আয়াদের রুমে রেখে আসেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগীর রুমমেট জান্নাতুল ফেরদৌস সূচনা বলেন, ‘এটা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

অপর অভিযুক্ত মেফতাহুল জান্নাত মনিকা বলেন, ফারজানার রুমমেটের কিছু অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কয়েকজন সিনিয়র তাকে নিয়ে বসি। এক পর্যায়ে সে অসুস্থ বোধ করলে তার রুমমেট সূচনা তাকে রুমে নিয়ে যায়। এরপর রাত ১টার দিকে সূচনা আমার কাছে এসে বলে ফারজানা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। এজন্য আমরা কয়েকজন ওদের রুমে যাই। সেখানে ফারজানা আমাদের সঙ্গেও তর্ক করে ও গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে সে আমাকে ধাক্কা দেয়। পরে ম্যামকে (হল সুপার) জানালে তিনি এসে তাকে সঙ্গে নিয়ে যায়। তাকে হল থেকে বের করে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।

জানতে চাইলে হল সুপার নুরুন্নাহার বলেন, খ-৪০৭ নম্বর রুমে সমস্যার কথা শুনে আমি তৎক্ষণাৎ সেখানে যাই। তাদের দুইপক্ষের কথা শুনলাম এবং ফ্লোরের মেয়েরাও ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে কথা বলছিলেন। আমি তাদের মতামত জানতে চাই, তারা বলেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে কোনোভাবেই এই রুমে রাখা যাবে না সে আমাদের আক্রমণ করতে পারে। রাত বেশি হওয়ায় তাদের সঙ্গে তর্কে না গিয়ে আমি ওই শিক্ষার্থীকে আয়াদের রুমে রেখে আসি।

এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ফেরদৌসী মহল বলেন, আমি বর্তমানে রাজশাহীর বাইরে আছি। তবে হলের ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। আগামীকাল (শনিবার) ফিরবো। তারপর দুইপক্ষকে ডেকে এ বিষয়ের সমাধান করবো।

জানতে চাইলে ছাত্র উপদেষ্টা মো. তারেক নূর বলেন, হল থেকে শিক্ষার্থীকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। হলের প্রভোস্ট এলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করবো।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Leave a Reply

সর্বশেষ