Friday, September 30, 2022

নুরুলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতা – সৈয়দ শামসুল হক, কবিতার মূলভাব, প্রশ্ন উত্তর

নুরুলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতা – লেখকঃ সৈয়দ শামসুল হক।

নুরুলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতা য় কবি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভে শত্রুর বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে সামন্তবাদ-সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সাহসী কৃষকনেতা নূরলদীনের সংগ্রামের কথা লিপিবদ্ধ করেছেন। এ কবিতার প্রেক্ষাপটে নূরলদীন মুক্তির আন্দোলনে বাঙালির অনুপ্রেরণাদায়ক শক্তি।

নুরুলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতা pdf, নুরুলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার মূলভাব, নুরুলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার ব্যাখ্যা, নুরুলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার mcq, নুরুলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

নুরুলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার মূলভাব | নুরুলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার ব্যাখ্যা:

নুরুলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার মূলভাব | নুরুলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার ব্যাখ্যা: নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতাটির মাধ্যমে কবি সৈয়দ শামসুল হক নাট্যকাহিনিকে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছেন। সাহসী কৃষক নেতা নূরলদীনের সংগ্রামের কথা ১৭৮৩ সালে (১১৮৯ বঙ্গাব্দ) রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে সামন্তবাদ-সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে। কবি বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সঙ্গে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নূরলদীনের সাহস এবং ক্ষোভকে অসামান্য দক্ষতায় মিলিয়ে দেখিয়েছেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে নয়টি মাস ধরে বাংলাদেশকে পাকিস্তানি হায়েনারা মৃত্যুপুরীতে পরিণত করে । ইতিহাসের প্রতিটি পৃষ্ঠা যখন রক্তে রঞ্জিত হতে থাকে তখন কবির মনে পড়ে ইতিহাসের প্রতিবাদী নায়ক নুরলদীনকে ৷ ১৭৮৩ সালে নুরলদীনের ডাকে মানুষ যেভাবে জেগেছিল, কবির বিশ্বাস এখনো মানুষকে সেভাবে জাগতে হবে।

নূরলদীন হয়ে ওঠে এক চিরায়ত প্রতিবাদের প্রতীক। ইতিহাসের পাতা থেকে নূরলদীন মিশে যায় বাংলার শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের ভিড়ে। কবির প্রত্যাশা, ভাগ্য বিড়ন্বিত মানুষ নুরলদীনের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে একদিন পাহাড়ি ঢলের মতো ভাসিয়ে দেবে সকল অনিয়ম, যখন নূরলদীন দেবে ডাক “জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়।”

 

নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতা – সৈয়দ শামসুল হক

নিলক্ষা আকাশ নীল, হাজার হাজার তারা ঐ নীলে অগণিত আর
নিচে গ্রাম, গঞ্জ, হাট, জনপদ, লোকালয় আছে ঊনসত্তর হাজার।
ধবলদুধের মতো জ্যোৎস্না তার ঢালিতেছে চাঁদ-পূর্ণিমার।
নষ্ট খেত, নষ্ট মাঠ, নদী নষ্ট, বীজ নষ্ট, বড় নষ্ট যখন সংসার
তখন হঠাৎ কেন দেখা দেয় নিলক্ষার নীলে তীব্র শিস
দিয়ে এত বড় চাঁদ?

অতি অকস্মাৎ
স্তব্ধতার দেহ ছিঁড়ে কোন ধ্বনি? কোন শব্দ? কিসের প্রপাত?
গোল হয়ে আসুন সকলে,
ঘন হয়ে আসুন সকলে,
আমার মিনতি আজ স্থির হয়ে বসুন সকলে।
অতীত হঠাৎ হাতে হানা দেয় মানুষের বন্ধ দরোজায়।
এই তীব্র স্বচ্ছ পূর্ণিমায়
নুরুলদীনের কথা মনে পড়ে যায়।
কালঘুম যখন বাংলায়
তার দীর্ঘ দেহ নিয়ে আবার নূরলদীন দেখা দেয় মরা আঙিনায়।

নূরলদীনের বাড়ি রংপুরে যে ছিল,
রংপুরে নূরলদীন একদিন ডাক দিয়েছিল
১১৮৯ সনে।
আবার বাংলার বুঝি পড়ে যায় মনে,
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
যখন শকুন নেমে আসে এই সোনার বাংলায়;
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
যখন আমার দেশ ছেয়ে যায় দালালেরই আলখাল্লায়;
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
যখন আমার স্বপ্ন লুট হয়ে যায়;
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
যখন আমার কণ্ঠ বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায়;
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
যখন আমারই দেশে এ আমার দেহ থেকে রক্ত ঝরে যায়
ইতিহাসে, প্রতিটি পৃষ্ঠায়।

আসুন, আসুন তবে, আজ এই প্রশস্ত প্রান্তরে;
যখন স্মৃতির দুধ জ্যোৎস্নার সাথে ঝরে পড়ে,
তখন কে থাকে ঘুমে? কে থাকে ভেতরে?
কে একা নিঃসঙ্গ বসে অশ্রুপাত করে?
সমস্ত নদীর অশ্রু অবশেষে ব্রহ্মপুত্রে মেশে।
নূরলদীনের কথা যেন সারা দেশে
পাহাড়ী ঢলের মতো নেমে এসে সমস্ত ভাসায়,
অভাগা মানুষ যেন জেগে ওঠে আবার এ আশায়
যে, আবার নূরলদীন একদিন আসিবে বাংলায়,
আবার নূরলদীন একদিন কাল পূর্ণিমায়
দিবে ডাক, “জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়?”

নুরুলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতা pdf পি ডি এফ।  [ ক্লিক করুনঃ ]

নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর:

নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতা এর সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর:

সৃজনশীল প্রশ্ন ১ :

দেশ স্বাধীন হয়েছে প্রায় অর্ধ-শতাব্দী হতে চলল । আজও ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষা থেকে মুস্তি মেলেনি। আজও পাহাড়ি-বাঙালি সংকট আমাদের স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণের অন্তরায়। এই অন্তরায় অতিক্রম করে দেশকে আলোকিত করতে প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্বের। যে নেতৃত্ব আনবে সেই আলোর বর্ণাধারা। যেমনটি এনেছিলেন ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমান।

ক. ‘নিলক্ষা’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘যখন শকুন নেমে আসে এই সোনার বাংলায়” বলতে কি বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপক ও ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায় সাদৃশ্যপূর্ণ দিক কোনটি? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায় নূরলদীনের আদর্শের যথার্থতা বিচার করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন ২ :

‘নেলসন ম্যান্ডেলা তুমি’_ সংগ্রামী চেতনা উজ্জীবিত করা গানের একটি কলি। গানটির লক্ষ্য কিংবদন্তি নায়ক নেলসন ম্যান্ডেলা, ধিনি দক্ষিণ আফ্রিকার কালো মানুষের মুক্তির প্রতীক। তিনি সাম্রাজ্যবাদ, বর্ণবাদ, বৈষম্য আর নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলনের এক লড়াকু সৈনিক। দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্জা শাসক সম্প্রদায় গণমানুষের আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে তাকে জেলে পাঠায়; কিন্তু জনতার সংগ্রাম থেমে থাকেনি । কালোদের স্বপ্ন চুরমার ও অধিকার লুষ্ঠিত হওয়ার রক্তাক্ত প্রতিবাদে তাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে কেবল ম্যান্ডেলার ছবি। সমগ্র বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের চাপে একসময় তিনি কারগার থেকে মুক্তিলাভ করেন। আফ্রিকার মানুষের ভালোবাসা আর মমতুবোধে তিনি চির অমর হয়ে আছেন।

ক. নুরলদীনের বাড়ি কোথায়?
খ. “পাহাড়ি ঢলের মতো নেমে এসে সমস্ত ভাসায়’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের “স্বপ্ন চুরমার, “অধিকার লুণ্ঠিত’ ও ‘রক্তাক্ত প্রতিবাদ’ প্রসঙ্গ ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার
কোন কোন বিষয়ের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? _ তুলে ধরো।
ঘ. “উদ্দীপকের নেলসন ম্যান্ডেলা ও ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার নূরলদীন দুজনেই সংগ্রামী জনতার শাশ্বত মুক্তির প্রতীক”__ যথার্থতা নিরূপণ করো।

আরও কবিতা পড়ুনঃ তাহারেই পড়ে মনে কবিতা – লেখকঃ সুফিয়া কামাল ।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ :

প্রবল বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পদ্মা তীরবরর্তী সোনাখালী গ্রাম। খাদ্য সংকট ও রোগ-ব্যাধি প্রতিরোধে কাজ করার চেষ্টা করছে কয়েকজন তরুণ। তাদের সকলেরই মনে পড়ে এলাকার প্রিয় মুখ প্রয়াত গফুর সাহেবের কথা । এলাকার মানুষের যেকোনো বিপদে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে সাহসিকতার সাথে বিপূদ মোকাবিলায় গফুর সাহেবের তুলনা ছিল না। এখনো তাই প্রাকৃতিক বা মানসৃষ্ট যেকোনো সমস্যা মোকাবিলায় গফুর সাহেব প্রেরণার উৎস হয়ে থাকেন।

ক. ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায় কত হাজার লোকালয়ের উল্লেখ আছে?
খ. “নষ্ট ক্ষেত, নষ্ট মাঠ, নদী নষ্ট, বীজ নষ্ট, বড় নষ্ট যখন সংসার” – বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকের গফুর সাহেবের সাথে ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়” কবিতার নূরলদীনের তুলনা করো।
ঘ. “প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও মানবকল্যাণের বৃহত্তর চেতনায় উদ্দীপক ও ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতা অভিন্ন অর্থবহ।”__- তোমার মতামত দাও।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৪ :

তিতুমীর আজ আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক । তিনি চব্বিশ পরগনা জেলার হায়দারপুর গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। অত্যাচারী ইংরেজ ও জমিদারদের বিরুদ্ধে তিনি এদেশের শ্রমজীবী মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াস চালিয়েছিলেন। তিনি আমৃত্যু এই সংশ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। অবশেষে ১৮৩১ সালের ১৯শে নভেম্বর ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে তিনি শহিদ হন।

ক. ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায় সমস্ত নদীর অশ্রু অবশেষে কোথায় মিশে?
খ. ‘কালঘুম যখন বাংলায়’_ কথাটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের তিতুমীর কোন দিক দিয়ে ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার নূরলদীনের চরিত্র বহন করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “জাতীয় বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিহাসের শিক্ষা তাৎপর্যপূর্ণ” উদ্দীপক এবং ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার আলোকে উপস্থাপন করো।

নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার mcq:

নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার mcq:

সৈয়দ শামসুল হকের সাহিত্যের গঠনশৈলীর ক্ষেত্রে কোন ভাবটি পোষণ করতেন?

ক) গবেষণা প্রবণ মনোভাব
খ) নিরীক্ষাপ্রিয় মনোভাব
গ) প্রতীক ধর্মী মনোভাব
ঘ) প্রচারধর্মী মনোভাব

‘নূরলদীনের সারাজীবন’ কী ধরনের গ্রন্থ?

ক) গল্পগ্রন্থ
খ) কাব্যনাটক
গ) উপন্যাস
ঘ) কাব্যগ্রন্থ

‘জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়- এটি কোন এলাকার আঞ্চলিক ভাষা?

ক) যশোর
নোয়াখালী
গ) চট্টগ্রাম
ঘ) রংপুর

‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায় কোন ধরনের মানুষ আবার জেগে ওঠে নূরলদীনের আশায়?

ক) হতাশাবাদী
খ) আশাবাদী
গ) অভাগা
ঘ) নিষ্পেষিত

তিতুমীর এক ঐতিহাসিক চরিত্র। তিতুমীরের সঙ্গে তোমার পঠিত ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায় সাদৃশ্য রয়েছে কার?

ক) নূরুলদীনের
খ) কবির
গ) কৃষকের
ঘ) শোষকের

‘মাগো ওরা বলে সবার মুখের ভাষা কেড়ে নেবে।’_ উক্ত কবিতাংশের সঙ্গে ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ চরণ কোনটি?

ক) নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
খ) যখন শকুন নেমে আসে এই সোনার বাংলায়
গ) যখন আমায় স্বপ্ন লুট হয়ে যায়
ঘ) যখন আমার কণ্ঠ বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায়

‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায় দালাল বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?

ক) রাজাকারদের
খ) শকুনকে
গ) নুরলদীনকে
ঘ) রংপুরের মানুষকে

‘যখন আমার দেশ ছেয়ে যায় দালালের আলখাল্লায়’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

ক) দেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে
খ) দেশের ভিতর গুপ্তচরকে
গ) দেশের সাধারণ মানুষকে
ঘ) দেশের মুক্তিকামী মানুষকে

‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায় অভাগা মানুষ জেগে ওঠে কীসের আশায়?

ক) সংগ্রামের আশায়
খ) মিছিলের খবরের আশায়
গ) প্রতিবাদী হবার আশায়
ঘ) নূরলদীনের প্রত্যাবর্তনের আশায়

‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতাটি কীসের প্রস্তাবনাংশ?

ক) কাব্যের
খ) কাব্য নাটকের
গ) গল্পের
ঘ) সমালোচনার

নুরলদীন টরিত্রটি কোন অর্থে প্রয়োগ ঘটেছে?

ক) চেতনা
খ) নেতা
গ) লক্ষ্য
ঘ) অহংকার

কবি নূরলদীনের সাহস আর ক্ষোভকে অসামান্য নৈপৃণ্যে কীসের সাথে মিশিয়েছেন?

ক) ভাষা আন্দোলনের সাথে
খ) গণঅভ্যুর্থানের সাথে
গ) মুক্তিযুদ্ধের সাথে
ঘ) স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সাথে

নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তরঃ

নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তরঃ

প্রশ্ন :নূরলদীনের বাড়ি কোথায় ছিল?
উত্তর: নূরলদীনের বাড়ি ছিল রংপুরে।
প্রশ্ন: নুরুলদীন কত সালে ডাক দিয়েছিলেন ?
উত্তর :নুরুলদীন ১১৮৯ সনে ডাক দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন: নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতায় জোৎস্নার সাথে কি ঝরে পড়ে ?
উত্তর: জোৎস্নার সাথে স্মৃতির দুধ ঝরে পড়ে।
প্রশ্ন: নূরলদীনের কথা সারা দেশে কিসের ঢলের মতো নেমে আসে ?
উত্তর: পাহাড়ি ঢলের মতো নেমে আসে।
প্রশ্ন: দীর্ঘ দেহ নিয়ে নুরুলদিন দেখা দেয় কোন আঙিনায়
উত্তর :মরা আঙিনায়।
প্রশ্ন :নিলক্ষা আকাশের রং কি উত্তর নিলক্ষা আকাশের রং নীল প্রশ্ন নুরুলদীন আবার একদিন কোথায় আসবে?
উত্তর: বাংলায় আসবে।
প্রশ্ন : নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতা য় কত হাজার লোকালয়ের কথা বলা হয়েছে ?
উত্তর :ঊনসত্তর হাজার লোকালয়ের কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন: মরা আঙিনায় কে দেখা দেয় ?
উত্তর: মরা আঙিনায় নুরুলদীন দেখা দেয়।
প্রশ্ন :অতীত হঠাৎ কোথায় হানা দেয় ?
উত্তর: অতীত হঠাৎ হানা দেয় মানুষের বন্ধ দরজায়।
প্রশ্ন: কবির মতে জাগো বাহে কোনঠে সবায় বলে কে ডাক দিবে ?
উত্তর :নুরুলদীন ডাক দিবে।
প্রশ্ন :সমস্ত নদীর উৎস অবশেষে কোথায় মেশে ?
উত্তর: ব্রহ্মপুত্রে মেশে।
প্রশ্ন :সোনার বাংলায় যখন শকুন নেমে আসে তখন কার কথা মনে পড়ে যায় ?
উত্তর :নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়।
প্রশ্ন :১১৮৯সনে বাংলায় কি ঘটেছিল ?
উত্তর: ফকির বিদ্রোহ ঘটেছিল।
প্রশ্ন: নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতা দালাল কারা ?
উত্তর : দেশদ্রোহীরা।
প্রশ্ন :সবাইকে কোথায় আসার আহ্বান জানান ?
উত্তর : সবাইকে প্রশস্ত প্রান্তরে আসার আহ্বান জানান।
প্রশ্ন :অভাগা মানুষ কার আশায় জেগে ওঠে ?
উত্তর :নুরুলদীনের আশায়।
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার অনুধাবন প্রশ্নোত্তরঃ
প্রশ্ন-১ঃ স্তন্ধতার দেহ ছিড়ে কোন ধ্বনি? কোন শব্দ? – উক্তিটি দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: স্তন্ধতার দেহ ছিড়ে কোন ধ্বনি? কোন শব্দ?’ দ্বারা বাংলার জাগরণকে বােঝানাে হয়েছে। যখন শত্রুরা দেশকে জিম্মি করে সমস্ত কিছু শুষে নিচ্ছে। চারদিকে হাহাকার ধ্বনি প্রকম্পিত হতে হতে শুদ্ধতায় নিমগ্ন হয়ে গেছে তখন সমস্ত স্তদ্ধতাকে ছাপিয়ে ভেসে আসে জাগরণের ধ্বনি। সে ধ্বনিতে মানুষের মনে শক্তি সঞ্চিত হয়। সে ধ্বনি মানুষকে সাহসী করে তােলে। সেই জাগরিত ধ্বনি মানুষকে শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শেখায়।
প্রশ্ন-২ঃ কবি কেন সকলকে স্থির হয়ে বসার জন্য মিনতি করেন?
উত্তর: কবি সকলকে সংগঠিত হওয়ার জন্য মিনতি করেন। অতীতে ঘটে যাওয়া নানা ধরনের সংগ্রামী ইতিহাস কবি সকলকে শােনাতে চান। কারণ অতীতের সেইসব ঘটনার সাথে বর্তমানের বিপদের মিল রয়েছে। কবি চান অতীত সে ঘটনাগুলাে শুনে মানুষ প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হােক। তাই কবি মিনতি করেন সকলে যেন ঘন হয়ে উপস্থিত হয় এবং স্থির হয়ে বসে কবির কথা শুনে শত্রুর বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার জন্য।
প্রশ্ন-৩ঃ কবির কেন বার বার নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়?
উত্তর: কবির বার বার নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কারণ নূরলদীন ইতিহাসে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াননাএক প্রতিবাদী চরিত্র। কবি অতীত সংগ্রামের ইতিহাসে কাতর। যখনই মনে পড়ে বাংলা দীর্ঘদিন দুর্দশাগ্রস্ত ছিল, বাংলায় অত্যাচার বৃদ্ধি পেয়েছিল, যখন বাংলা দেশদ্রোহী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল এবং যখন বাংলার বাক স্বাধীনতাকে হরণ করা হয়েছিল, সে সব ইতিহাস মনে পড়লেই কবির নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়। নূরলদীন অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল, তার উদাত্ত আহবান দ্বারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। তাই কবি যখনই চারদিকে অরাজকতা দেখেন তখনই নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়।
প্রশ্ন-৪ঃ যখন আমার কষ্ঠ বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায়’- বলে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: বাক-স্বাধীনতার হরণকে কবি উল্লেখিত পঙক্তি দ্বারা প্রকাশ করেছেন।বাংলা ভাষা যখন বাংলার মানুষের মুখ থেকে কেড়ে নিতে চেয়েছিল, কবি সেই সময়কার কথা বলেছেন। বাংলার মানুষের মাতৃভাষা কেড়ে নিয়ে উর্দু ভাষাকে বাংলায় প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। বাক স্বাধীনতাকে যারা হরণ করতে চায় কবি তাদের প্রতি ক্ষুদ্ধ।
প্রশ্ন-৫: নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতায় ইতিহাসে প্রতিটি পৃষ্ঠায়’ বলে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতায় প্রতিটি সংগ্রামের ইতিহাসকে ইতিহাসের প্রতিটি পৃষ্ঠা দ্বারা বােঝানাে হয়েছে। কবি সংগ্রামী চেতনার ইতিহাসকে বড় করে দেখতে গিয়ে ইতিহাসের প্রতিটি বিদ্রোহের কথা মনে করেন। কবির বিদ্রোহ, কৃষক বিদ্রোহ, নীলবিদ্রোহ, মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি সব সংগ্রামের ইতিহাস মানুষের মনে লিপিবদ্ধ। ইতিহাসের প্রতিটি পৃষ্ঠায় কবি এ সব বিদ্রোহের ইতিহাসের বর্ণনা দেখতে পান।
প্রশ্ন-৬: স্মৃতির দুধ জ্যোত্মার সাথে ঝরে পড়ে’- বাক্যে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘স্মৃতির দুধ জ্যোৎস্নার সাথে ঝরে পড়ে’—বলতে কবি অতীত স্মৃতিকে বুঝিয়েছেন। বাংলার মানুষের অতীত ইতিহাস, সংগ্রামের ইতিহাস। সে সব সৃতি মানুষের মনের স্মৃতিকোঠরে বন্দি। আর জ্যোৎস্নাশোভিত রাতে সে সকল অতীত স্মৃতি মানুষের মনে পুনরায় জেগে ওঠে। নিঃসঙ্গ মানুষ একা একা সে সব স্মৃতিকথা মনে করে অশ্রু বিসর্জন করে। বলা যায় যে, বাংলার সৌন্দর্য যখন জ্যোৎস্নার আলােয় আরাে সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়, তখন প্রতিটি মানুষই তার অতীত স্মৃতি মনে করে।
প্রশ্ন-৭: নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতায় অভাগা মানুষ কী প্রত্যাশা করে? ব্যাখ্যা করাে।
উত্তর: নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতায় অভাগা মানুষ
নূরলদীনের প্রত্যাবর্তন প্রত্যাশা করে।
নূরলদীন প্রতিবাদী চরিত্রের নাম। অভাগা মানুষ আশা করে সে একদিন আসবে। এসে তাদের পাশে দাড়াবে। সমাজে তাদের ওপর যত অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন হচ্ছে তার প্রতিবাদ করবে। তাদের দুঃখদুর্দশা দেখে নূরলদীন তা দূর করবে। তাই অভাগা মানুষ চায় নূরলদীনের প্রত্যাবর্তন।
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতা আবৃত্তি  দেখেতেঃ  [ ক্লিক করুনঃ ] 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Leave a Reply

সর্বশেষ